দক্ষ জনবলের অভাবে যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দক্ষ জনবলের অভাবে অনেক সময় এগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও নবনির্মিত আইসিইউ-২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
দেশে আগে কোনো ইনস্টিটিউট ছিল না উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, বর্তমানে অনেক ইনস্টিটিউট হয়েছে। এর কল্যাণে স্বাস্থ্যসেবার জন্য দেশের বাইরে যেতে হয় না। তবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ এ উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন।
ধূমপান, তামাক ও বায়ুদূষণ বিভিন্ন রোগের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে এসব পরিহার করতে হবে।
তিনি আও বলেন, আগে দেশে রোগের প্রকোপ বেশি ছিল। কিন্তু বিভিন্ন পদক্ষেপ ও স্বাস্থ্য সচেনতার কারণে তা কমে এসেছে।
জাহিদ মালেক বলেন, যক্ষ্মায় দেশে প্রতি বছর তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগটিতে আগে বছরে মারা যেতো ৩২ হাজার মানুষ, এখন তা কমে ২৯ হাজারে নেমে এসেছে। এটাও আরো কমিয়া আনতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে। এ অবস্থা ধরে রাখতে মাস্ক পড়তে হবে, স্বাস্থবিধি মানতে হবে, যেন করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যে সময় পরিবারের কেউ রোগীদের পাশে আসেনি, তখনও বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের সেবা দিয়েছেন। তাই নিবেদিতপ্রাণ এসব স্বাস্থ্যকর্মীকে শ্রদ্ধা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমাদের বিরাট সাফল্য যে, আমরা করোনা মোকাবেলা করতে পেরেছি। বাংলাদেশের চিকিৎসা এতো উন্নত যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়নি।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ‘ দেশে ৪৬৫টি জেনারেল কনসালট্যান্ট পদ ছিল। তার মধ্যে আমরা সারা দেশের বক্ষব্যাধি হাসপাতালগুলোর জন্য ৫৪ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদ দিয়েছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এটা বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। করোনার সময় এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছে। এই হাসপাতালের যে উন্নয়ন কার্যক্রম হয়েছে, তা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। নেতৃত্বের কারণে এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।’
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে আমরা বিশ্বমানের স্বাস্থসেবা দিচ্ছি। দেশের বক্ষব্যাধি চিকিৎসার শেষ স্থান এই হাসপাতাল।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মু. সাইদুল ইসলাম।